সৌকর্য গ্রুপের একমাত্র ওয়েবজিন।

About the Template

শনিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৩

কবিতা - ইমেল নাঈম







আকুতি

হিমঘরে পড়ে আছি , যত তাড়াতাড়ি সম্ভব
শেষকৃত্য আয়োজন করা হোক ,
আমার থাকা আর না থাকায়
তোমাদের আর কিছু যায় আসে না

এইতো সেদিন ,
বিশ্বজিকে পুরনো ঢাকায় রাস্তায় কুপিয়ে
নৃশংস ভাবে হত্যা করা হল
সেখানে আমি ছিলাম,
চোখের সামনে ঘটতে দেখলাম প্রাণপাখির বিসর্জন

তাজরিন গার্মেন্টসের পুড়নে ,অনলের দাহ্য ক্ষমতাকে
চেখে দেখেছিলাম এক-নিমিষেই ,
কত সহজেই একশত চব্বিশটা প্রাণ . . .
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের সেই মানসিক বিকারগ্রস্ত
যুবকের অস্ত্রের ঠাঠা হাসি দেখেছিলাম নিরুপায় হয়ে

দিল্লীতে কত নিষ্ঠুর হয়ে গেলে তোমরা . . .
নারীর বুকের আঁচল মাটিতে ফেলে দিলে তোমরা
আমারই সামনে ভেবে দেখো কতটুকু
পাষাণ হলে ল্যাব এক্সপেরিমেন্ট হতে
পারে ছয় বছরের বাচ্চা শিশুকে নিয়ে  

এসব দেখার তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে
তোমাদের সামনেই মৃত্যুবরণ করেছি ,
অথচ তোমরা জানলেও না সে খবর
স্বর্গ যাত্রার প্রারম্ভে আশরাফুল মখলুকাতের
কাছে ছোট্ট অনুরোধসমাপনী উসব হোক
এই নাম ভাঙ্গিয়ে বনিক দলের রুটি-রুজি-রোজগারের



সতর্কবার্তা 

এইযে জনাব , 
আয়নায় নিজেকে দেখেন না কতদিন ? 
দেখলে বুঝতেন কতখানি চর্বি জমেছে দেহে  
গেল মৌসুমে লোক দেখানো কথা বলে 
ভিক্ষা নিয়ে চলে গেছেন শহরে  
এরপর থেকে কোন খবর নেই , 
মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ভালিয়ে 
আর কতদিন লোক ঠকাবেন ? 

প্রতিদিন বিকালে টেলিভিশনে দেখি আপনি 
সুরম্য প্রাসাদে এসির বাতাসে গলাবাজি করেন , 
আর পত্রিকার পাতার রঙিন হরফের শিরোনামে 
ছড়িয়ে থাকে আপনার শরীরের ব্যবচ্ছেদ  
একবার রাস্তায় এসে দেখুন , চোখের ক'ফোটা 
জল অবশিষ্ট আছে এলাকার মানুষের , 
এই মানুষগুলোর ক'জন খেয়ে - না খেয়ে মরে ! 

শুনুন জনাব আর বেশিদিন সময় হাতে নেই - 
বাক্স পেটরা গুছিয়ে নেন তাড়াতাড়ি , 
সামনের কার্ত্তিকে আসছে ভিক্ষার মৌসুম 
আমরাও বসে আছি সেদিনের অপেক্ষায়

কবিতা - ঋতুপর্ণা সরকার




এই মুহূর্ত

চারিদিকে আজ বড় কুয়াশা!
আমার চোখ দেখতে না পেলেও
শব্দ শোনে
শব্দ নয় আসলে আর্তনাদ
অথবা কোন জান্তব চিৎকার
দেওয়ালে পিঠ থেকে যাবার আগে
হয়ত এক সোচ্চার অভিঘাত,
আমার,আমাদের বা রাষ্ট্রের!
ধর্ষণেচছা মোছে না কখনই!
আর তাই কুয়াশা কেটে গেলেও
যখন দৃশ্যমান হয় চতুর্দিক
চেয়ে দেখি মৃত্যু শুয়ে আছে
আরামে, নিশ্ছিন্তে,অবশেষ হয়ে


সময় মতই ভালবাসব।

এই সময় বড় বিচিত্র, অস্থির!
সম্পর্কের সীমা রাখেনা।
গোপন হরফকে উন্মোচিত করে অনায়াসে।
এই সময় কোনও ঘেরাটোপ মানেনা,
বুলেটের মত ছিন্নভিন্ন করে চেতনাকে!
প্রথম প্রেমের আবেশ আর আসেনা,
নেই সেই রঙ্গিন ছাতার তলায় হেঁটে যাওয়া,
ভিরু লজ্জারাও আর দেখা দেয় না।
রাতের অরণ্যের মত চুপিচুপি আসেনা আর সম্পর্ক!
চতুর্দশীর অন্ধকারে অঝোরে ভেজা আজ নিষেধ,
চোখ নিংড়ানো জলে টলমল হয়না কোনও হৃদয়
এই সব কিছু পেড়িয়ে
ঝরের রাতে উত্তাল সমুদ্রে
আমার ভাঙ্গা ডিঙি ভাসাবো
হাজার সিন্ধু পেড়িয়ে তোমার কাছে আসবোই
তোমার দুচোখের অপেক্ষার মুহূর্তগুলো গুনব বলে!