সৌকর্য গ্রুপের একমাত্র ওয়েবজিন।

About the Template

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩

গুচ্ছ কবিতা - বিনু মাহ্‌বুবা






মেঘের উৎপাত বিনু মাহ্‌বুবা


ঘুমের পাশে এই তো চুপ করে বসে আছি,
দিগন্তে অনিবার্য মেঘের উৎপাত,
রাতের রেলিং-এ জামদানী কারুকাজ,
মেঘলা রঙের জমিন, অন্ধকারের পাড় বোনা ।
সকাল হতেই বকুল গন্ধে উন্মনা মন,
টুকিটাকি হারানো জিনিস খুঁজে খুঁজে উচাটন-অকারণ,
তুমি-ই কি জানো, কি তোমার প্রয়োজন? জেনেছো তো ঠিক ?
তুমি কি জানো, মধ্যরাতে মুষলধারে বৃষ্টি ভাসে,
তোমার কন্ঠ তখন রেশমের মতো নেমে আসে-
অগণন ভালোবাসায় ভেসে যায় মনো জমি।


নিঃশব্দ রাত্রির গান 

চিঠির গায়ে ধূলো জমেছে ,
হাওয়া এসে আলো নেভানো রাতে

ঠিকানা খুঁজছে এলোমেলো পায়ে।
ঠিক দেখেছি, টিক টিক শব্দে
ঘড়িটা বলছে, রাত হয়েছে, রাত!
কিন্তু কিছুতেই ঘুমোতে পারছিনা এই আমি !
যদি ও আকাশে তুলকালাম মেঘের ঘনঘটা নেই,
নেই বৃষ্টির আভাস ,
জ্যোৎস্না আছে তাও বলা যাবেনা,
কারণ,এখন অমাবস্যা রাত।
কিছুই ভোলায়না , টানে না ,
এ কেমন অভিসম্পাত!
তবে কি অলৌকিক দাহ !
পাহাড়ের চুড়ায়
সূর্যাস্তের আরশি ভেঙে সোনা রঙ থমকে নিঃশেষ।



বড় বেশী কুন্ঠিত থাকি

বড় বেশী কুন্ঠিত থাকি, তবু সাজ হয়না !
ইদানিং বড় কুন্ঠিত থাকি এই আমি ,
হৃদয়ের নুড়িপাথর গুলো নাড়া দিলে বেসুর বাজে,
জ্যান্ত জোনাক মৃত দেখি ,
অসময়ে কাজল ল্যাপটে যায় ব্যাভিচারি রাজনীতিকদের মতো
"ভুমি"র টাইম নেই দাদা শুনতে এখন,
আর ভাল্লাগেনা।
পথের দু'ধারের যতো ফুল ,
বর্ণহীন,গন্ধহীন, পিঙ্গল লাগে ,
বিপুল বিভ্রম হয় জন্ডিস আলোয় ,
দিবসের কোনো সমাবেশে আগ্রহ আসেনা আর ।

গুচ্ছ কবিতা - বেবী সাউ



প্রবাসী
বেবী সাউ



তুই পা বাড়ালি ,
কেউ পেছন ডাকলো না
নাকি থেকে যাওয়ার কথা ...



স্যালাইনের বোতল
আর কিছু জ্বরগন্ধ সূচ পড়ে থাকল ,
একা নার্সের সাদা রঙ দেখে রঙেরা সরে গেল ,
দূরে খালি স্থান জুড়ে বসে গেল পিঁপড়ের সারি ,
মুখে ডিম
তুই চলে গেলি , কেউ কাঁদলও না



সফর



এরপরেও সে ভাবাচ্ছে আমায়
কিছু অস্পষ্ট আলো ,
কিছু সমান্তরাল বক্ররেখা ছাড়া
এ মূহূর্তে যদিও আর কোন বিলাসিতা নেই
পাঁচিলের ওপাশে শিরীষ গন্ধ
নিমগাছে ডানাভেজা কাক
ভাবতে ভাবতে
সূর্যাস্ত
আর
আমার সময় শেষ ছাতিমতলায় !




কবিতা - রক্তিম জয়



যা জীবনান্ত ছায়া নিয়ে ছেয়ে আছে
রক্তিম জয়



দরজা বিহীন একটা ঘরের সামনে দাড়িয়ে; অবিরত প্রার্থনা,
দরজা খুলে কেউ আসবেই!!
একটু আগে আগুনের উত্তাপ হারিয়ে বসে ছিলাম--কি বিমর্ষ সেই খোঁজা-খুঁজি
আমাকে কে যেন প্যাকেট ভর্তি মৃত্যু উপাহার দিয়ে গেল।

সারা ঘরে ঘরে
রং হীন ছবির নাচ।।
কাগজ আর কলম অপেক্ষায়
নতুন কবিতার।


সারাটা সময় তোমাকে বুকে করে জীবন
কি কুৎসিত সুন্দর এক মানুষের শেষ হয়ে যাওয়া দেখলাম।।
আলো, তুমি কি অধরা, অস্পষ্ট

এই অন্ধকারে' বিকশিত হয়েই চলছো,
জানালার মুখ চিড়ে বৃষ্টির আগমন, সেই অস্পষ্টতায়!!

চামড়ার চিঠি লিখে জানিয়ে দিতে হয়—

কোন শহরকে, কেউ ভাল আছে, কেউ নেই
ঘুম হীন চোখে তুমি ও জেগে আছো এই রাত,
আজ বুকে নিয়ে ঐ দূ-র আকাশের নগ্নতার ক্রন্দনে।।

ভগবান ভীত হয়ো না
তোমার কোলেও সন্তান জন্ম নেবে
তোমাকে আর কেউ ঘেন্না- করবে না,
মানুষের ভাগ্যের মত।।

দুর্নিবার বজ্র পথচলা
যেমন কবি চলে যায়
তুমি ও পারবে- হ্যাঁ
অভিশাপ- সেই শুভ কামনার,
নারকীয় অভিশাপ তোমাকে দিলাম।।

কে বেরিয়ে আসলো, দরজা খুলে!! কে তুমি
কি আশ্চর্য! অবিকল যেন আমি- এখানে কি ঘর ছিল?
নাকি ভুল ছিল আমার সাধনা!!
কে তুমি!! আমার ছায়া নিয়ে করেছিলে খেলা?


কবিতা - সুমন কুমার সাহু

মুক্তির চেতনাসুমন কুমার সাহু

জল স্থল আকাশে
নিঃশ্বাস স্বপ্নের মোড়কে,

ভালোবাসা বিশ্বাসে
আশ্বাস জীবনের সড়কে,

ঢেউ তোলে ,হাল ধরে,পাখামেলে,
লিখে চলে দিতে কবিতা তোমাকে।

গভীর ঘুমের আগে,
শুধু একবার শোনাও পড়ে
এ জীবনের কথা কবিতার ঢঙে,
শোনাও আমাকে।

ছ্ন্দ মেশাই স্পন্দনে,
আমি এক অদ্ভুত কবি,
সব কবিতাই তোমাকে
এ জীবনের কথা আর ছবি।

যত মায়াজাল
আসুক নেবে
তোমায় আমি ভুলছিনে
চোখের নোনতা জিভে মুছে।

মুষ্টিবদ্ধ হাতে
ফেটেপড়ি চিত্কারে।

নিষ্ঠুর নিয়তি ভেঙে
পিপিলিকা যাক উড়ে।

কবিতা - অশোক মল্লিক



যদি করে থাকি ভুল অশোক মল্লিক



ক্ষমা কর মোরে যদি করে থাকি ভুল
কষ্ট দিয়েছি যত পার দিতে ফিরিয়ে |
তবুও বলব ঐ নিরব দৃষ্টিতে,আছে
সব কিছু ধ্বংস বা সৃষ্টি----
স্বপ্নের লুকোচুরি হয়েছে যে শেষ,
অপেক্ষা শুধু ফাৎনাটা ডোবার |
বাতাসের আর্দ্রতা আর করুন আলো


ঢেকে দেয় কুআশার চাদর মুড়ে |
জানি পালাতে দেবেনা আমায়,
পড়ে আছি মাটিতে নিরুপায় |
দুহাতে ভোরে তুলি কালি বালি
ফেলে দিয় ছুড়ে স্বপ্ন আশা বিবেক,
সবুজ পাতার ফিকে আলো মলিন,
আজ তাই ফিরে যায় খালি দুহাত |
কাঠের আগুনে নাড়া দিয়না তুমি
নিভে যাবে তাড়াতাড়ি হয়ে কালো |
ঘাসের হলুদ পাতা নীল নিশ্বাস নেয় ,
অব্যক্ত ভাষা বলে তোমার মুখ
আমি ক্ষমাচাই যদি করে থাকি ভুল!!!

কবিতা - ধ্রুবনীল পদ



জীবন্ত কাব্যের অনাদি পুরাণ
ধ্রুবনীল পদ (সবুজ মন্ডল)



জীবনবৃক্ষ কালবসন্তে রঙ্গিন কষ্টের ডানা মেলে

হতাশার ভস্ম ঘেরা একলা কোন মরুর সাগরে।
প্রানশুধার মৌহেল গন্ধে ধরা মাতিয়ে বেড়ায়

অধরা আশাবৃন্তে ফোটা স্বপ্ন শতদল।


ক্ষণিকালয়ের সিন্ধু কঠোরে লুকিয়ে থাকা বরপুত্র
পথ হারায় সমবাহুর বিপরীত দুই বিন্দুতে...

জীবনের সংজ্ঞাও ধোঁয়াশায় মিলিয়ে যেতে থাকে তার কাছে

প্রাতিষ্ঠানিক কোন রূপও দিতে পারে না সে !
জীবন হয়তোবা গুপ্ত ঘাতকের মতই বর্ণচোরা

ঘাপটি মেরে বসে থাকে, প্রাণহীন কণিকায়

প্রাণরস চুষে নেবার আশায়...

চলন্তিকার পাঁজর চিড়ে সাড়ে তিন হাত অতলেও

যখন সংজ্ঞাতীত মনে হয় পার্থিব জীবন,

তখনি অস্তিত্বের অবস্থান জানান দেয় জীবন্ত কীটগুলো

বিবেকের সলিলপুত্র তখনও উৎসের খোঁজে

ঠায় তাকিয়ে রয়,চন্দ্রগিরির দিকে চোখ তুলে ...

কিন্তু আদৌ কি সে খোঁজ পায় উৎসের ?

নাকি উত্তরায়ণের জীবনবায়ু ছিন্ন মস্তা করে দেয়

স্বপ্নঘুড়িকে,

হয়তোবা আশার নাটাই ছাড়াই

স্বপ্নঘুড়ি খুঁজে পায় নবালম্বন।

কিন্তু সে-ই নিঃস্ব গুপ্তচর ...?

সে-তো পড়ে থাকে জীবন পথের আস্তাকুড়ে

জীবন্ত টোকাই হয়ে,

শুন্য ঝোলা স্কন্ধসঙ্গী করে-

“ভালবেসে খুঁজে বেড়ায় ভালোবাসা

ভালোবাসার জন্য।”

কবিতা - অনিমেষ সিংহ

দেখা হবে আবার
অনিমেষ সিংহ


আমাকে খুঁজবে না তুমি
তোমরা !
জানি ফুলের গাছ পোঁতা হবে
ফুটপাতে
হাতে-হাত রোদ মাখতে মাখতে
হেঁটে যাবে...
তোমাদের পায়ে পায়ে সমুদ্র
নৌকো করে ফুল আসবে ভেসে।
তবু দেখা হবে।

শাশ্বত অরণ্য আমার মুখ ভর্তি খোঁচা খোঁচা...
মেঘ বৃষ্টিতে ধুয়ে ধুয়ে
যখন সারা রাত চাঁদ,
জোছনায় জ্বলতে জ্বলতে...
আমি ভালবাসব তোমাকে,
নিজেকে,
বরফ পাহাড় তার নিচে ঢেউ খেলানো ধাপে ধাপে
সোনালী ফসল...
এতোসব কিছু তাই ফিরব ডাঙ্গায়,
রক্ত দেওয়া-নেওয়া প্রখর খোরা জিভে লোনা স্বাদ
সিনেমার ঘর জল ছই ছই !
ভাঙ্গা রিক্সার ছাদে হিমেল বাতাস
সবুজ ঘাসে গঙ্গা-ফড়িং
রাতের বেলায়
পা তুলে নেমে যাবে নদীর ভেতর ।
বড় রাস্তার মোড়ে ভিজে যাওয়া রেলিং-এর
নীল রঙে
মিশে যাবে তোমার দীঘল দুটি চোখ...
দেখা হবে।

আজ কম্বলে মেঘ জড়িয়ে শুয়ে আছি
মরুভূমি ক্যাকটাস আঙ্গুলে নখে
রোদ ছুঁলেই আমি প্রেমিক আবার
দেখা হবে
ভীষণ ঝড়ে...

এখন দিগন্তে বৃষ্টি ঝরার গান নেই,
পাঁজরে দামামার ভীষণ প্রহার,
চাঁদে যোদ্ধারা আসে চাঁপা বনে...!
পালকে পুরুষ ঠোঁট লাগাও যতটা আঁধার নিতে পারে তোমার
খয়েরী ডানা ।

তারপরে ভালবাসার দেখা হবে একদিন
ভালবাসার সাথে ।

কবিতা - শুভজিৎ বসাক

পুতুল শক্তি
শুভজিৎ বসাক



পূজো এসেছে, চারদিক তারই নেশায় মেতেছে,
তবু কিছু একটা বিষাদের মায়ায় যেন চারিদিক নিস্তব্দ্ধ।।
আজ নারীশক্তি শুধুই মাটির পুতুলেই পূজিত,
তার সম্মান আজ লাঞ্ছিত অবহেলিত।।
মা আজ যে উচ্ছাস তোমার সামনে করছি,
তা নিছকই আনন্দের নয়,
এ যেন শক্তিকে পুতুলে পরিণত করার উচ্ছাস।।
যে নারীশক্তির আরাধনায় সমাজ মেতেছে,
আদৌ সে সমাজ তার অঙ্গীকার রক্ষা করেছে??
পারেনি, এ সমাজ পারেনি।।
মা এবার কিছু সুমতি এনো তোমার সাথে,
যেন শক্তিকে শুধু পুতুলে নয়,
বাস্তবেও তাকে সম্মান করি,
তবেই এ শক্তি পূজো সার্থক,
তোমার মর্তে আগমন সার্থক হবে মা,
সেইই হবে তোমার শ্রেষ্ঠ পূজার অজ্ঞলি।।।


কবিতা - সূর্যস্নাত বসু



নিম্নমধ্যবিত্ত 
সূর্যস্নাত বসু


তিন বাটি দই, গঙ্গারামপুরেরে । একুশ টাকা । একটা আস্তো কলার মোচা, আর পাঠা
এই নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ কাটত । মাঝে দু একবার মাছের ঝোল, চকলেট আইসক্রিম ।
ক্যাডবেরী । এর বেশী নয় ।

পুজোর ঠিক একমাস আগে মদনলাল ব্রীজমোহন । তিন চারটে শাড়ি, হংসরাজে আমার
চারটে হাফপ্যান্ট দুটো টিশার্ট, দুটো জামা---সপ্তমী থেকে দশমী অব্দি । এ ক্লাস ।
এছাড়া সস্তার ক্যাপ বন্দুক, সাথে এক প্যাকেট বুড়িমার বাজি । চরকা বোম্ব ।
আর বাইরে অনেক কথা ।

মনে পড়ে,বাজার শেষে ফেরার পথে রোজ রিক্সায় আমি নানা ধরণের বায়না করতাম,
মা-বাবার ঝগড়া হত,দু তিন রকমের চড়ও খেতাম । রিক্সা চলত । কখনও দুজনের
হাত ধরে হাঁটতাম । ভিড় বাসে বাড়ি ফিরতাম । বাবা হিসেবের খাতা বাড়িয়ে দিত ।
মা পাশ ফিরে ঘুমোতে যেত ।
ঘুম আসত না ।

তবে এখন ,এই যে আমার বড় হয়ে ওঠা, এর মধ্যে অনেককিছুই বদলেছে
দামী খেলনা থেকে চকলেটপ্রেম, সব কমেছে । বুঝতে পারি । আর হ্যাঁ, একটা
সুখবর, এখন আর আমার তেমন কোন আবদার নেই, ছোট্ট একটা চাহিদা
বলতে রোজ রাতে ঘুমোনোর আগে বাবার মতই হিসেব করি,

আবদার কিনি
আবদার বেচি ...



বাবার অনেক বয়স হয়েছে । এই বয়সে
প্রায় সবকিছুই ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক ।
আর বাদবাকিদের কথা ছেড়েই দিলাম
মাঝেমধ্যে নিজেকে চিনতেই ভুল হয় তাঁর ।
বাজারঘাট, হিসেবপত্তর, ঘা বসানো---এসব
স্মৃতি থেকে তুলে দেওয়া তো রোজকার ঘটনা ।
অনেক ডাক্তার, বৈদ্য, কবিরাজ, হাকিম
দেখানো হল, বকবকবক থেকে ইলেকট্রিক শক
সব কিছুই এল, কিন্তু কাজের কাজ হল কই ?
অতঃপর আর কোন উপায় না পেয়ে কোত্থেকে এক
পক্ষীসদ্দৃশ এবং অত্যন্ত নমনীয় অর্বাচীন এসে
বাবার দুহাতের মুঠোয় মা আর আমাকে বন্দী করে দিল,
আর তা দেখে উনি প্রায় একগাল হেসে বেশ স্বতঃস্ফূর্ততায়
বলে দিলেন,"হয়ত আনুমানিকতাই আমার ভুলে যাওয়ার কারণ ।"




কবিতা - অনুপম দাশশর্মা









শব্দের খাতিরেঅনুপম দাশশর্মা



বিষয় কি ভাসে বাতাসের গায়ে কিংবা কি ডুব
দিতে হবে তার গাত্রদাহের ঝিল সাঁতারে!
টানটান চোখের চামড়া শিখেছে শব্দের রহস্য ফাঁদতে।
যদি পারো গিলতে ভালো নয়ত রোয়াকহারা
দোরগোড়ায় মজলিশ খুঁজে নাও
মাউসের ক্লিকে।

সমাজের উসখুস মাথায় চেয়ো না নাজুক গোলাপখাস
চারধারে দেখো থোকা থোকা কাঁচপোকা
প্রহর গোনে সাবাশের মনকাড়া আলাপে।

আর আমি আর তুমি, বিছুটি পাতা ফুঁড়ে
সামনে দেখাই ক্ষুব্ধ খাদ।
আহ্লাদ নয়, নয় হেমন্ত সন্ধ্যায় বোতলের
মহোৎসব রাতভর অযাচিত বীর্যক্ষয়ে,

তোমারও দায়িত্ব থাকে কবি
আত্মঝংকার ঝেড়ে দায়বদ্ধতার আলো জ্বালাতে
বিষয়ের সুস্থ সাঁঝবাতিতে।

বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

কবিতা - ঊষসী ভট্টাচার্য

বনফুল
ঊষসী ভট্টাচার্য



সারা রাত জাগা বুকের নোঙরে
ভেসে ওঠা মুখ,
পরিত্যক্ত বিছানায়
হারিয়ে ফেলা বসত বাড়ি,
পোড়া কিছু চিঠি
তারই মাঝে রিনরিনে বাজে..
`তোকে নিয়ে মহুল বনের সারেং হবো`


বনপলাশির বন্য চিবুক ছুঁয়ে যায়
রাত পোড়া ক্যাডবেরি দাগ
সাদাটে ধোঁয়ায় ছাই হয়
মাদলের আওয়াজে দুলতে থাকা শরীর -
অবিন্যস্ত নাবিকের সাঁওতালী ফুল
শহুরে পাশবালিসে তুলো ভরে,
মহুয়ার বিষে পোষ না মানা কেউটে
খেলে কানামাছি ...
ক্যানভাসে ভাসে চেনা স্বর
`তোকে নিয়ে মহুল বনের সারেং হবো'


সীমান্তে প্রহরী দাড়ায় বন্ধনী হাতে,
রাত বিছানা ডাকে
`আয় আয় '
তবুও ফিরে আসে চেনা স্বর
'তোকে নিয়ে মহুল বনের সারেং হবো '! 


কবিতা - মামনি দত্ত

একক সঙ্গী
মামনি দত্ত



সমুদ্রপাখি
অতল ভুলে বৈকালিক স্বরে চাঁদ প্লাবন খুঁজে মরে,
সাধ ওগো সাধের কাছাকাছি ডানা মেলা গান ! .....
গান আর গানের কিছু ঘুম ........
অনেক স্বপ্ন –
সারি বেঁধে কম্পাঙ্ক শুষে নেয়।

হলুদ আখরগুলো
পাক খায় জলের সিঁড়ি বেয়ে,
তারই দোতারা তে বিবাদ ঘুচে পরিতৃপ্ত যাপন
.....শরীর ঘামে উষ্ণতা অনিঃশেষ নরম,
কাতর স্পর্শ লেগে থাকে
বাঁধ ভাঙা নিখাদ যামিনীর হাতে
যার বালিরাশি তে নীল সেতু ... ...
তার উপর একাকী শঙ্খ,
শঙ্খের বুকে এক অতল সমুদ্রপাখি।




কবিতা - অনিমেষ সিংহ

সংশয়
অনিমেষ সিংহ


মুহূর্তরা বদলায়
ছোবলে হ্যামলক গেঁথে,
প্রতি পলকে
ছলকে ওঠে নদী।

কখন নম্বর আসে
মায়াময় কূহেলীকায়,
কালো ধোঁয়া কুন্ডলী পাকিয়ে
আমার সর্বস্ব নিয়ে
সিরোট্রেটাসের ওপর উঠে যায় রথ ,
সূর্যের চেয়েও আতপ্ত উত্তাপে
ধরতে পারি না
প্রিয়তমা অবয়ব।

এখনো জঠরে যন্ত্রনা সাথী
নিদারুন তৃষ্ণায়,
অস্ত্রের আগে আগে আমাদের ইতিহাস
নদী মাতৃক
শুকনো কূলে ভেসে যায়
ঘোড়া গুলো।

তোমায় ধরতে পারি না।।


কবিতা - বেবী সাউ

হঠাৎ এক বৃষ্টিরাত
বেবী সাউ


(১)
এই মাত্র নিজামত শেষ হলো
চোখে চোখে খেলে গেল পরোয়ানার গোপন ইস্তাহার
ইয়ারবক্সীদের পদলেহন
আগুন ঢাললো রূপোর গেলাসে ।

অধোবদন হয়ে হাঁটু গেড়ে আছে ষোড়শী রাত
দৃষ্টিহীন পথে উল্কা ছাই হয়ে গ্যাছে কবে !

আসমান আর জমিন বোঝাতে
তখনি খুরের শব্দ
মহল্লায় ঢুকে পড়ছে নবজাতকের কান্না ।

কবিতা - ভাস্কর ভট্টাচার্য

সাফো এসো
ভাস্কর ভট্টাচার্য


সাফো এসো শত শতাব্দী পার থেকে
বয়ে নিয়ে তোমার চুম্বন
তোমার অনন্ত শব্দ দাসেরা
কানে কানে বলে যাক
‘ভালবাসি’।
সাফো,
এসো কলুষিত কর আমাকে,
ভেঙ্গে দাও আমার আয়ুর অহঙ্কার,
আমার যৌবনের পুতুল ঘর,
হাহাকারে ভরে যাক আমার ফোপরা বুকের খাঁচা,
উইয়ের ঢিবির মতো ভঙ্গুর অনু পরমাণু,
ঝুর ঝুর করে খসে গেলে -
দেখতে পাব, আমার দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি,
মিথ্যে হয়ে গেছে।
আমার জন্মেরও আগে......
সাফো এসো,
এসো!


কবিতা - বিদিশা সরকার

বিল্লুরানি
বিদিশা সরকার


এক পক্ষকাল অপেক্ষার পর বিল্লুরানি
ভাঁজ করে রাখলো রাতের শরীর।
যদিও সারা দেওয়াল জুড়ে
একটাই শব্দ বেজে উঠেছিল "তওবা " "তওবা " ।
তবু সে জানতো, নার্গিস চোখের সুর্মা মুছে দিলে
নিষিদ্ধ রাতের রূপচাঁদ বড়াল স্ট্রীটের মতোই সব পথ সুনসান,
ফরাসে পড়ে থাকে সারেঙ্গী ।
সারেঙ্গী যখন চলে গিয়েছিল
বিল্লুর সুর্মাও শেষ ।
খদ্দেরের জন্য পেতে রাখা বিছানায় অভিষিক্ত মুগ্ধতারা
একবারও জানতে চাইলনা বিল্লু কেন সে ভাবে বাজেনা ,
কেন বিল্লু আলিঙ্গন প্রত্যাখ্যান করে হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে যায়
খোলা জানলায়,
আর ঠাহর করার চেষ্টা করে দূরের সে শব্দ
অন্য কার ঘরে বেজেই চলেছে ।।

কবিতা - চৈতালী বসু

তোমারই জন্য
চৈতালী বসু



পৃথিবীর সব মাঠের শেষে একান্তে বিকেল নামে
কপালের রোদ্দুর মুছে,
বিষণ্ণতা, ক্ষণিক তোমায় পাওয়ার ৷

অরণ্যের ঘ্রাণ নিয়ে জেগে থাকা রাঙা পাখির
ডাকাডাকি অবিরত, তোমায় শুধু…

আদিগন্ত ব্যপ্ত অঘ্রাণের ধানে স্বপ্নের দোলা লাগে
শিহরণ, তোমার ছোঁয়ায়…

কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে ভেঙে চুরে সব তছনছ ।
উন্মত্ত, তুমি না এলে…

ধূসর কালো মেঘে শ্রাবণের অঝোর ধারা
আকাশও কাঁদে, তোমারই জন্য…

এসব কথা সারা পৃথিবী জানে,
তুমি জানো না?

কবিতা - চৈতালী গোস্বামী

প্রেম
চৈতালী গোস্বামী


মেঘের পাহাড়ে ঘুমিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ।
জেগে উঠলাম, আর উপন্যাস শুরু হল ,
গীর্জার সামনে এসে দাঁড়ালাম ,
ঘাসের মুখ ভিজিয়েছে শিশির
পাইনের পথ আরও শিথিল …

আমায় বর্ষাকালের মত ভালবেসেছ তুমি।
তাই ঝাউয়ের ভিড়ে ঘর বেঁধেছি একসুরে
দীঘির মত উপচে এসেছ বলেই
সরোবরে সরোবর মিলে গেল।

বর্ষা হোক
ঘাস হোক
আরো গভীর হোক অরণ্যের বুক

একটা কামড়-আদরের সকাল দিয়েছ তুমি।
একটা গীর্জা
একটা সরোবর
আমার শরীরে তীব্র বুনো-গন্ধ দিয়েছ
তুমি।

কবিতা - এমদাদুল আনোয়ার

শিকারী
এমদাদুল আনোয়ার


পাখি দিয়ে পাখি ধরো কেন?
খাঁচার পাখি দিয়ে বনের পাখিটিকে
করছ যে বার বার নিঠুর শিকার
সে কি ক্ষোভে, নাকি কোনো বেদনায়?

তুমিও কি হয়েছিলে
মানুষের রূপ ধারী
কোনো এক পাখির শিকার
পাখি দিয়ে পাখি ধরো সেই অভিমানে?
চুপ কেন শিকারী, পায়ে পড়ি বলো!

কবিতা - ইমেল নাঈম

আর্জি
ইমেল নাঈম



সরল অংক গরল হচ্ছে বারবার,
আশার ফানুস মিথ্যেয় উড়ছে হাওয়ায়।
অন্নপ্রাশনকে খাঁটি ভেবে পাড়ি দিই দু'মাইল পথ
অতঃপর মোহ ভাঙ্গতেই তমস্যার সৌধসিত।

ইদানিং মধ্য-পূর্ব পৃথিবীতে মাছিদের আগ্রাসন প্রকট ,
ছয়টি মাছি মুখ হা করে আছে শকটে ।
নিবৃত কর কেউ ওদের ।
কেউ বোঝাও -
নোংরা ময়লা খেয়ে আর যাই হোক
পৃথিবীর বুকে শান্তি নামে না ,
দর্শন হয় না স্ট্যাচু অফ লিবার্টি'র ।

মাছিদের বল চলে যেতে
তাদের আগমন রক্তের স্বাদ দেবে পৃথিবীকে ...