সৌকর্য গ্রুপের একমাত্র ওয়েবজিন।

About the Template

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ, ১০ম সংখ্যা

সম্পাদকীয়



সাহিত্যসাথীরা,

আশা করি ভালো আছেন সবাই। হেমন্তের পেলব পরশ গায়ে মেখে শীত এসে গেল,আর তারই সাথে পৌষের ডালি সাজিয়ে সৌকর্য আরো একবার আপনাদের কাছে হাজির। আপনাদের ভালবাসা ও সুন্দর সাহিত্যচিন্তা আমাদের এগিয়ে চলার পাথেয়। তাই আপনাদের কাছে আবারো ধন্যবাদ।

আমাদের এবারের বিভাগেও আগেরবারের মত গল্প,প্রবন্ধ, কবিতা বা ধারাবাহিক উপন্যাসের মত নিয়মিত বিভাগগুলো ছাড়াও আমাদের বিশেষ বিভাগগুলো রয়েছে -

১. স্মৃতিচারণ
২. অবিস্মৃত
৩. ভারতকথা
৪. পরম্পরা

আমাদের শীতকালীন এই সওগাত মিঠে রোদ্দুরে পিঠ ঠেকিয়ে উপভোগ করুন বন্ধুরা। ভালো থাকুন ও সঙ্গে থাকুন ।।

সম্পাদক মন্ডলী
সৌকর্য

শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ, ৯ম সংখ্যা



সম্পাদকের কলম থেকে

যা দেবী সর্বভূতেষু বিদ্যারূপেন সংস্থিতা
নমস্তসৈঃ নমস্তসৈঃ নমস্তসৈঃ নমো নমঃ

বন্ধুরা,
ভাল আছেন তো?

আবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে শরৎ আসে। আসে উৎসবের দিনগুলি। প্রকৃতি হয়ে ওঠে মোহময়, স্বতঃস্ফূর্ত সৌন্দর্যে পৃথিবী নেচে ওঠে, বয়ে যায় হৃদয়ে হৃদয়ে ফল্গুধারা। সেই ধারার সাথে মেলবন্ধনে ফিরে এলাম আমরা। শারদীয়ার আগাম প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

সফল কি না সে খবর আমাদের জানা নেই, কিন্তু সবার আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সহজ সরল বন্ধনে এই প্রচেষ্টা যে সব দিক থেকে সুন্দর এ কথা স্বীকার করতেই হবে। সে ক্ষেত্রে "সৌকর্য" নামটা স্বার্থক।

ঠিক ধরেছেন বন্ধুরা আবার প্রকাশিত হল আপনাদের ভালোবাসার "সৌকর্য"।।

প্রবীণ ও নবীন সাহিত্যিক ও সাহিত্যানুরাগী মানুষজনকে একসঙ্গে একসুত্রে গাঁথার চেষ্টা করে এই সৌকর্যের জন্ম। তাই এই মিলন মেলায় যেটা সব থেকে বেশী চোখে পড়ে , তা হল এক সাথে একাধিক প্রজন্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাহিত্যের রস উপভোগ করছে ও তারই সাথে নতুনকে খুঁজে এনে তাদের সৃষ্টিকে সবার সামনে প্রকাশ করছে।

আমাদের বিশ্বাস, পুরোন না থাকলে নতুনের জন্ম সম্ভবপর নয়, নিজেদের ঐতিহ্য ও দর্শনকে না জানলে, না বুঝলে সেই চেতনায় কোথাও না কোথাও একটা ফাঁক থেকে যায়। তাই সেই কথা মাথায় রেখেই এবারের সৌকর্যে থাকছে কিছু বিশেষ আকর্ষণ।

১. বহু পুরোন কোন কবির কবিতা
২. ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার, পরম্পরা
৩. ভারত-কথা,
তা ছাড়াও কবিতা - গল্প - ভ্রমণ-রম্যরচনা ও প্রবন্ধের সমাহারে সেজে উঠেছে আমাদের সৌকর্য । আপনাদের সবার সাথে হাতে হাত রেখে ভবিষ্যতের এক সুন্দর ও বলিষ্ঠ অনলাইন সাহিত্যপত্রিকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করুক সৌকর্য , এটাই কাম্য।

সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন.... সুস্থ রাখুন নিজেকে ও নিজের চারপাশকে ।। পূজোর গন্ধকে ছড়িয়ে দিন ধনী থেকে দরিদ্রে, মানুষ থেকে মানুষে, মন থেকে মনে।

আগমনীর প্রীতি ও শুভেচ্ছাসহ......

ধন্যবাদান্তে
সৌকর্য সম্পাদক-মন্ডলী

শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ ৮ম সংখ্যা

সম্পাদকের কলম থেকে



প্রিয় সুধীবৃন্দ,

বেরোতে চলেছে আপনাদের প্রিয় সৌকর্যের অষ্টম সংখ্যা।

এই মুহূর্তে, আমাদের পায়ের তলার মাটি, আর অগ্নিবলয় প্রায় সমকক্ষ। এই মুহূর্তে আমরা পরিবর্তনের চরমসীমা দেখে চলেছি, আমাদের ঘরের মেয়েদের গতকালও কোন নিরাপত্তা ছিলনা, আজো নেই, আমরা শুনতে পাচ্ছি, বুদ্ধিজীবিরা পর্নোগ্রাফির ব্যাবসা করেন, যা আমরা বিগত পঞ্চাশ বছরে কোন রাষ্ট্রনেতার মুখে শুনিনি, আমরা আর খুঁজে পাচ্ছিনা সেই পরিবর্তনকামী মোমবাতি ওয়ালাদের, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে ভাষণ ছুটে আসছে বারংবার, আর আমরা ভেবে চলেছি, আমরা ঠিক কোন পথে হাঁটব?

সেইরকম একটা সময়ে, আমরা নিজেরাই যেখানে দ্বিধাগ্রস্ত, আমরা বের করতে চলেছি এই সংখ্যাটি।

সঙ্গে রেখেছি, পূজা মৈত্রর এক অসাধারণ একালীন ও আইভী চ্যাটার্জীর এক চিরকালীন মর্মন্তুদ গল্প, সঙ্গে রেখেছি এক প্রবীন নবীন কবি, অনুপ দত্তর গুচ্ছ কবিতা, রেখেছি ওয়ার্ডস ওয়ার্থ এর অনুবাদ, আর এক ঝাঁক তরুন ও অভিজ্ঞ কবির কবিতা।

এই সংখ্যার এক বিশেষ আকর্ষন সমকালের পর্যালোচনা, যা উঠে এসেছে শ্রীশুভ্রর কলমে।

আশা করব, আপনারা সকলে আগেও যেরকম সঙ্গে ছিলেন , এবারেও তাই থাকবেন...

ধন্যবাদান্তে,

সম্পাদক
সৌকর্য

সোমবার, ২০ মে, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ, ৭ম সংখ্যা


সম্পাদকের কলম থেকে -

তোমার জন্য রাজা সাজা
তোমার গানে ভালোবাসা,
তোমার কথায় রক্তকরবী
তোমার লেখায় কাঁদা হাসা।


সময়ের হাত ধরে নতুন দুনিয়ায় সবুজ ধানের মেঠো গন্ধ আর পল্লীসরলতা নিয়ে যখন হাতছানি দেয় গ্রামবাংলা, যখন প্রাণের মধ্যে শব্দের আকুলতা আর ঝড় বয়ে যায়, মুঠোভরা আনন্দের ডালি এক লহমায় ভরে যায় মনে-প্রাণে, ঠিক তখনই কে যেন বলে ওঠে -

কত কি দিয়েছো তুমি কত কি পেয়েছি হৃদয়ের ঘাটে
তোমার স্মৃতিচারনেই জ্বলে ওঠে মম সন্ধ্যপ্রদীপ তটে।

প্রাণের ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ, তাঁর ১৫৩তম জন্মদিন, তাঁরই রচনা পাঠ করে, তাঁরই সুরারোচিত গান গেয়ে পালন করলাম গত ২৫শে বৈশাখ। আসলে আমাদের যাপিত জীবনের প্রতিটি পলে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রচেতনা, রবীন্দ্রভাবনা। আলাদা করে তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ জানানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। তবুও তাঁর অন্তরঙ্গ উপলব্ধিতায় উৎসর্গীকৃত এবারের সৌকর্যের ৭ম সংখ্যা - রবীন্দ্রশ্রদ্ধার্ঘ।


সৌকর্যের এবারের সংখ্যা 'রবীন্দ্রশ্রদ্ধার্ঘ'-এ রয়েছে কবি অমিতাভ দাশের দুটি কবিতা, শ্বান্তনু মৈত্রের কবিতা, ইন্দিরা দাশ এবং রিঙ্কু দাশের কবিতা, অদিতি চক্রবর্তীর 'দাড়িবুড়ো', শ্রীশুভ্রের 'বিশ্বপথিক', শীবাশিষ রায়ের লেখা। নিয়মিত কবিতার ডালি নিয়ে এসেছেন, রণদেব দাশগুপ্ত, আকাশ দত্ত, বিদিশা সরকার, ভোলা রায়, ইলা, সৈকত ঘোষ, মামনি দত্ত, সূর্যস্নাত বসু। গল্প লিখেছেন মৌ দাশগুপ্তা এবং অমলেন্দু চন্দ। অনুবাদ কবিতায় রয়েছেন ইন্দ্রানী সরকার। আশা করি সকলের ভাল লাগবে। আমরা সাগ্রহে অপেক্ষা করব আপনাদের মন্তব্যের জন্য, আপনাদের অভিমতই আমাদের সৌকর্যকে আগামীদিনে সমৃদ্ধ করে তুলবে সকলের দরবারে।




সৌকর্য সম্পাদকমন্ডলীর পক্ষে
সুমিত রঞ্জন দাস

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ, ৬ষ্ঠ সংখ্যা

সম্পাদকের কলম থেকে


প্রিয় পাঠকবৃন্দ,

আবার হৈ হৈ করে এসে পড়ল সৌকর্য ষষ্ঠ সংখ্যা।

শীত চলে গিয়ে বসন্ত কোন ফাঁকে উঁকি দিয়েছে, আর গাছে গাছে, পাতায় পাতায় তার হিন্দোল চুপিসারে বলে গেছে-- এসে গেছে এসে গেছে ঋতুরাজ, আবার জাগবে আমের মুকুল, ফুটবে কুঁড়ি, নতুন পাতায় জাগবে জীবনের বোল ... ফাগুন আবার দেখাবে ম্যাজিক, বনে বনে, মনে মনে...

আমরা ধরে রাখব তারি রেশ পত্রিকায় লেখায় লেখায় ছত্রে ছত্রে...

কিন্তু আমরা ভুলিনি, এক বিশাল তরুণ প্রজন্ম, এক মহান দেশপ্রেমের নতুন অঙ্গীকার নিয়ে রক্ত ঝরাচ্ছে ঠিক আমাদের পাশের দেশে, আমাদেরি ভাইবোন ছিনিয়ে আনছে ন্যায় বিচার, শাহবাগ চত্তরে, আমরা তুলে ধরেছি তার এক প্রামাণ্য দলিল।

এবারের মূখ্য কবি চৈতালি গোস্বামীর কবিতা অনেকদিন ধরে এদিকে ওদিকে দেখা যাচ্ছিল, আমরা তার ঘরানাটি এখানে উপস্থাপনের সুযোগ পেলাম, আমাদের স্থির বিশ্বাস, কেউই নিরাশ হবেন না।

এবারে বহু তরুণ ও প্রবীন কবির কবিতায় সাজালাম সৌকর্যের থালা, মূল বিষয় ফাগুন ও তার প্রভাব। সাহিত্যমানে, গভীরতায় ও মনোরঞ্জনে প্রতিবারের মত এবারেও কেউই হতাশ হবেননা।

প্রবীন প্রবন্ধকার ফাল্গুনী মুখার্জীর দোল সম্পর্কিত প্রবন্ধটি এক অনন্য দিশার সন্ধান দেবে বলেই মনে করি।

প্রাবন্ধিক শ্রীশুভ্র-এর শাহবাগের উপর লেখাটি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সঠিক অবস্থানের কথা আপনাদের অবদিত করবে।

কবি বায়রণের কবিতার অনুবাদ এবার আপনারা পাবেন ইন্দ্রাণীর কলমে...যা এক অভুতপূর্ব স্বাদের কথা আপনাদের মনে করাবে।

মৌ দাসগুপ্তার গল্প এক নতুন সংযোজন এবারের সংখ্যায়, সন্দেহাতীত ভাবে নানান বৈচিত্র্যে এবারের সংখ্যা অন্যান্যবারের চেয়ে সম্পূর্ন এক ভিন্নস্বাদের গল্প নিয়ে এলো।

আশা রাখব, আপনাদের হাতে হাত রেখে, আমাদের পত্রিকা আরো বহু যোজন পথ হাঁটবার সাহস পাবে, সঙ্গে থাকবেন, পাশে থাকবেন......


অলমিতি, 


সম্পাদক
সৌকর্য





বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ, ৫ম সংখ্যা

সম্পাদকের কলম থেকে


প্রিয় সুধীবৃন্দ



এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে আমরা প্রকাশ করতে চলেছি আমাদের এই সংখ্যা।



১৯৫২ সালে, বাংলাদেশে , গভর্নর খাওয়াজা নাজিমুদ্দিনের নির্দেশে যখন উর্দুকে তদানীন্তন পুর্বপাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা করা হয়, যা ছিল মুষ্টিমেয়ের ভাষা, বাংলাদেশে এক গণ-অভ্যুত্থান হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা, এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মীরা একুশে ফেব্রুয়ারী এক বিশাল মিছিলে পথ হাঁটতে শুরু করেন ঢাকার রাস্তায়। তাদের রুখতে, সরকারের শাসন-যন্ত্র পুলিশি আক্রমণ নামিয়ে আনে, আর গুলিতে প্রাণ হারায় আব্দুস সালাম, রফিকুদ্দীন আহমেদ, সফিউর রহমান, আব্দুল বরকত ও আব্দুল জব্বর। রক্তের ধারা গড়িয়ে যায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে—আর জেগে ওঠে বাংলাদেশ। সমস্ত দেশবাসীর সামনে মাথা ঝোঁকাতে বাধ্য হয় সরকারি প্রশাসন—বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার সম্মান দিয়ে।



এই গণজাগরণেই লোকানো ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বীজ। স্বাধীনতা সহজে আসে নি। বিরোধিতা ছিল অনেক দিক দিয়েই, আর তার সাথে যোগ দিয়েছিল কিছু ঘৃণ্য মানুষ ও রাজনৈতিক দল। কিছু মানুষ শুধু এই মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেই দাঁড়ায় নি, অবাধে লুঠ-তরাজ, অত্যাচার, ধর্ষণ, গুপ্তচর বৃত্তি...ঘরে ঘরে আতঙ্কের দিন ছড়িয়ে দিয়েছিল। তবু, আটকানো যায় নি স্বাধীনতা, অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছেকে পায়ের তলায় চেপে রাখা যায় নি। কিন্তু বাংলাদেশ ভোলেনি, সেই সব বিশ্বাসঘাতক নরপশুদের। আজ রাজাকার হিসেবে তাদের চিহ্নিত করে বিচার চাইছে, সঠিক বিচার। উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ, যেমন হয়েছিল ১৯৫২তে, হয়েছিল ১৯৭১ এ, তেমনি হয়েছে ২০১৩ তে।



আর এই সন্ধিক্ষণে আমরা বের করতে চলেছি সৌকর্যের পঞ্চম সংখ্যা। আমরা সকলেই প্রতিমুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, প্রতিটি বাংলাদেশী ভাইবোনের পাশে, প্রত্যেকেই মনে মনে পৌঁছে গেছি শাহবাগের শহীদ চত্বরে, রাজীব হায়দরের মৃত্যুর সাথে সাথে গর্জে উঠেছি আমরাও। ভৌগোলিক সীমা দিয়ে বাংলা কে, বাঙ্গালীকে আলাদা করা যায় না, যেমন আলাদা করা যায় না মৌসুমি বায়ুকে, আকাশের নীল কে, সমুদ্রের জল কে...


আমরা এবার যেমন রেখেছি শাহবাগের উপর প্রতিবেদন, রেখেছি তপব্রত মুখার্জীর পাঁচটি কবিতা, রেখেছি এদেশী ও প্রবাসী বাঙ্গালীর লেখা গল্প, তেমন রেখেছি দুপার বাংলার কবিতা—আশা করি যা আপনাদের তৃপ্তি দেবে।


আপনাদের হাতে হাত রেখে আরো অনেক রাস্তা আমরা পেরিয়ে যাবো, এই বিশ্বাস গভীর থেকে গভীর করে তোলা আপনাদের যেমন দায়িত্ব, তেমনি দায়িত্ব আমাদেরও।


আসুন, একসাথে জীবনের পাতা ওল্টাই ...



নমস্কারান্তে,

সম্পাদক, সৌকর্য

রবিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৩

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ, ৪র্থ সংখ্যা



প্রিয় সুধিজন,

আবার এসে গেলো সৌকর্য। এবার আমাদের সংখ্যার একটি বিশেষ বিষয় আছে। এক অদ্ভুত অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা চলেছি, একটা চাপা নিরাপত্তাহীনতা, অবিশ্বাস, আশঙ্কা আর ভয়ের ভিতর দিয়ে হেঁটে চলেছে, আমার এই দেশ। যে সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা হলফ করে বলে উঠতে পারিনা, আমার ঘরের মেয়ে, সুস্থ শরীরে রাতে বাড়ি ফিরবেই, আমরা বলে উঠতে পারিনা, আমার ভাই, হাস্যজ্জ্বোল মুখে ভোরের দরজা খুলতেই পারবে, ভোরের কাগজ আমাদের হাতে আর কোন খুন, জখম, রাহাজানি, ধর্ষণের কথা তুলে দেবে না, কোথাও আর বিদেশী শক্তির রাইফেলের গুলিতে শিশুদের ছিন্নভিন্ন শরীর পড়ে থাকবে না---এ এক এমনি সময়...প্রতিমুহূর্তে...আগুন জ্বলে উঠবার আশঙ্কা...আর তাই, এইবার আমরা একটি বিষয় ভিত্তিক সংখ্যা প্রকাশ করবার চেষ্টা করলাম...-এই সময়

হয়তো আমরা গতবারের কয়েকটি সংখ্যার সমমানে এই সংখ্যাটি প্রকাশ করতে পারলাম না, কিন্তু আমরা আমাদের সামাজিক দায়িত্বের কথা কিছুতেই ভুলতে পারিনি, তাই ,এবার হয়তো আমাদের মানের সঙ্গে একটু আপোষ করতেই হল। পাঠক-পাঠিকা আমাদের নিজগুণে মার্জনা করবেন।

যেহেতু বিষয়-ভিত্তিক, তাই আমরা কোন প্রধান কবির গুচ্ছ কবিতা এবারে প্রকাশ করিনি, যাদের কবিতায় এই বর্তমান সময়টুকু ধরা পড়েছে, যাদের প্রবন্ধে একেবারে সময়ের দর্পণ খুঁজে পেলাম...তাদের টুকুই প্রকাশ করবার চেষ্টা করলাম।

আশা রাখব, পাঠক-পাঠিকা...আমাদের এই প্রয়াসকে...মর্যাদা দিয়ে বুঝবেন...ও নিজের নিজের মতামত প্রকাশ করে আমাদের, প্রতিবারের মতোই সমৃদ্ধ করবেন।

আর এইভাবেই সৌকর্য হয়ে উঠবে আপনার ও আপনাদের চলার পথের সাথী।

নমস্কারান্তে,
বৈজয়ন্ত রাহা,
সম্পাদক, 
সৌকর্য

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১২

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা

সম্পাদকের কলম থেকে


প্রিয় পাঠকজন,

আবারো বেরোল আপনাদের প্রিয় পত্রিকা সৌকর্য।

এটি সৌকর্যের তৃতীয় সংখ্যা। আমরা চেষ্টা করেছি, এবারের সংখ্যাকে আরো সমৃদ্ধ করে তুলতে। গতবারের সংখ্যাটি ছিল একটি বিশেষ সংখ্যা, তাই আমাদের যে মূল উদ্দেশ্য, তা সেটিতে প্রতিফলিত হয় নি। কিন্তু এবারের সংখ্যাতে, আমরা আবার আমাদের পুরোন দিশাতে ফিরেছি।

এই সংখ্যার কবি রুদ্রশংকর (সব্যসাচী), আশা করি তার লেখা আপনাদের যথেষ্ট তৃপ্তি দেবে। এবারের সংখ্যায় আমরা অনেক প্রতিভাধর লেখকের গল্প পেয়েছি, পাঁচ-পাঁচটি গল্প ও দুটি রম্যরচনা দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের সৌকর্য। সাথে আছে, অগুন্তি ভালো কবিতা..ও নন্দিতা ভট্টাচার্য্যর অনুবাদ কবিতা। আপনাদের মতো সাহিত্যপ্রেমী মানুষের অকুন্ঠ ভালবাসায় আমরা আপ্লুত। অনেক স্বনামধন্য মানুষ নিজে থেকে লেখা পাঠাবার অনুরোধ করায় আমি মুগ্ধ। খুব দ্রুতগতিতে কাজ করায়, ভুলত্রুটি অনেক থাকতে পারে, সেটুকু, নিজগুণে মার্জনা করে দেবেন।

যাদের কথা না বললে, আমি অকৃতজ্ঞ প্রতিপন্ন হব, তারা হলেন সুমিত রঞ্জন দা, রুপময় ভট্টাচার্য, সাগ্নিক গঙ্গোপাধ্যায়। এদের তিনজনের অকুন্ঠ পরিশ্রমে, বিশেষ করে সুমিত রঞ্জন দাসের নিরলস তাড়ায় ও আমার সাথে শেষদিনের প্রচন্ড পরিশ্রমের ফসল এই সংখ্যাটি। সেইসব কবি ও লেখকদের আমি শ্রদ্ধা জানাই, যাঁরা এককথায়, আমার অনুরোধে এক নয়, একাধিক লেখা সঠিক সময়ের মধ্যে পাঠিয়েছেন, এঁনাদের সহযোগিতা ছাড়া এই সংখ্যাটি বের করা সম্ভব হোত না।

আমরা মনে করি, সাহিত্যচর্চা একটি নিরন্তর প্রয়াস, এক বহতা নদির মতো, আমরা বহু মানুষ তাতে ঘটি ডোবাচ্ছি, আবার দুঘটি জলও ঢালছি, কোন নির্দিষ্ট ঘটনা ভিত্তিক সংখ্যা বের করাটাই আমাদের শুধু উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য বহু প্রতিভাবান লেখক ও কবিদের একটা সুস্থ মঞ্চ দেওয়া, যাতে তারাও নিরন্তর এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকতে পারে।

আশা রাখি, এই সংখ্যাটিও আগের গুলির মতো, আপনাদের মনের নিরবিচ্ছিন্ন সঙ্গী হয়ে উঠতে পারবে।


নমস্কারান্তে,


বৈজয়ন্ত রাহা,
সম্পাদক, সৌকর্য।



মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১২

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা

সম্পাদকের কলম থেকে

আবার বেরোল আপনাদের প্রিয় ব্লগজিন ‘সৌকর্য’।

সুনীল গাঙ্গুলী রবীন্দ্রোত্তর যুগে বাংলা সাহিত্যে একটি প্রবাদ-প্রতিম নাম। নবমীর ভোরে তিনি একটি অসমাপ্ত বিজয়া সেরে চলে গিয়েছেন।যা আর কোনদিন ‘আসছে বছর আবার হবে’ না। আমরা এবার তাঁর চলে যাওয়াকে (যদিও আমরা মনে করি, তিনি আমাদের সাথেই আছেন) স্মরণে রেখে ব্লগজিনের একটি অংশ তাঁর নামে উৎসর্গ করেছি। এই সংখ্যাকে আমরা সাজিয়েছি আগেরবারের চেয়ে আরও একটু চিত্তাকর্ষক করে। এবার আছে গল্প, রম্যরচনা, প্রবন্ধ ও বেশ কিছু কবির কবিতা।

এই সংখ্যাটি যেহেতু একটি বিশেষ সংখ্যা, তাই আমরা আমাদের ব্লগজিনের যে মূল উদ্দেশ্য, অপরিচিত অথচ শক্তিমান কোন একজন কবিকে বিশেষ ভাবে তুলে ধরা, সেটি এইবার করিনি। সাধারণ সংখ্যাতে আমরা তাই পালন করব। তবে, আমরা, এবার বহু নতুন কবির ও সাহিত্যিকের লেখাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, প্রতিষ্ঠিতদের পরিবর্তে। আমরা আশা রাখি, প্রত্যেকের লেখাই আপনাদের ভালো লাগবে।

এইবার, আমরা পত্রিকাটিকে দুটি বিভাগে সাজিয়েছি, একটি সুনীলবাবুর উপর, সুনীল গাঙ্গুলীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে, অপরটি অন্যান্য, যেখানে স্থান পেয়েছে, নবীন কবি ও লেখকদের লেখা। আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি, নির্ভুল ভাবে ব্লগজিনটিকে উপস্থাপন করতে, তা সত্তেও ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতেই পারে, সেটুকু নিজগুণে মার্জণীয়।

প্রতি পাঠক-পাঠিকাকে আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ, তাঁরা নিজেরা পড়ুন ও সাহিত্যপ্রেমী মানুষকে পড়ান, প্রত্যেকের মূল্যবান মতামত আমাদের কাছে শিরোধার্য, কারণ আমরা মনে করি, প্রকাশ হবার পর , ব্লগজিনের অধিকার তাঁদের, তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের কাছে সম্মানীয়।

সৌকর্য সকলের কাছে অপরিহার্য হয়ে উঠুক।

ধন্যবাদান্তে,
বৈজয়ন্ত রাহা, সম্পাদক

শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১২

সম্পাদকীয় - ১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা

সম্পাদকের কলম থেকে


এই মুহূর্তে ফেসবুকের প্রভাব আজকের নতুন ও পুরোন প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত সুবিদিত। ক্ষণিকের মধ্যে সমস্ত পৃথিবীতে পরিচিতজনের কাছে নিজের বক্তব্যকে , অনুভুতিকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে ক’টি সামাজিক আন্তর্জালের খ্যাতি চরম সীমায় পৌঁছেছে, তার মধ্যে, ফেসবুক অগ্রগণ্য। আর, তাই পৃথিবী এসেছে হাতের মুঠোয়। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে যেমন গড়ে উঠেছে নানান ধরণের দল , তেমনই গড়ে উঠেছে বহু সাহিত্য চর্চার সংগঠন, সমমনষ্ক ও অসমবয়স্কদের নিয়ে।

ঊনিশশ’ ষাট দশকে প্রাতিষ্ঠানিক পত্রিকাগুলির পাশাপাশি কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে লিটল ম্যাগ আন্দোলন তৈরী হয়, যদিও প্রথমে তা ছিল রাজনৈতিক ইচ্ছাপ্রণোদিত, কিন্তু ধীরে , তা পরীক্ষা-নিরিক্ষা মূলক সাহিত্যচর্চায় পরিবর্তিত হয়ে যায়। কিন্তু লিটল-ম্যাগ আন্দোলন সাহিত্য-চর্চার ক্ষেত্রে প্রায় বিপ্লব নিয়ে আসে। অগুন্তি, অফুরন্ত প্রতিভাধর লেখক ও লেখিকাকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে লিটল ম্যাগাজিন ছিল অদ্বিতীয়, এ আমরা সকলেই জানি। একই রকম ভাবে, ব্লগজিন আন্দোলন এই পরিবর্তনের ইতিহাসের মুকুটে একটি নতুন ময়ুরপুচ্ছ যোগ করল। আমি জানিনা, হয়তো এটিকে আন্দোলন বলা অনেকেই মেনে নেবেননা, কিন্তু যা কিছু মানুষের ভালোর জন্য পরিবর্তন, তাকেই আন্দোলন আখ্যা দেওয়া যায়, আর এই মুহূর্তে, বহু শত গ্রুপের ব্লগজিন আজ রক্তবীজের ঝাড়ের মতোই বারবার আছড়ে পড়ছে ফেসবুকের মাটিতে, আর পাঠককুল বারবার মুগ্ধ হচ্ছে। মানুষ যত সহজে কম্পিউটারে বসে, অবসরে ফেসবুকের পাতা খুলে, ব্লগজিন পড়তে পারেন, তত সহজে লিটল-ম্যাগ, বা বড় পত্রিকা পড়তে পারেননা। তাই , আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ব্লগজিন আন্দোলন আরো আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, উঠবেই।

সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই, আমরা, কবিতার জন্য কবিতার পক্ষ থেকে, ব্লগজিন ‘সৌকর্য’ প্রকাশে উদ্যোগী হয়েছি, আরো বহু ব্লগজিনের মতো আমরা শুধু এর উৎকর্ষতার কথাই ভাবিনি, আমরা ভেবেছি, এরকম বহু লেখক লেখিকা আছেন, যারা চেষ্টা করছেন, কিন্তু আত্মপ্রকাশের জমি খুঁজে পাচ্ছেননা, আমরা চাই, তাদেরকে তুলে ধরতে, যদি তার জন্য, বহুচর্চিত, বহুখ্যাত লেখকদের লেখা আমরা না ছাপতে পারি, তাতে আমরা পিছপা হব না, না হয় আমরা ফেসবুকের রাজপথে নাই হাঁটলাম, বন্ধুর পথেই এগোলাম, দরকারে, রাস্তা করে নিতে আমাদের সাহসের কোন কমতি হবে না, এ আমরা কথা দিতে পারি। আমরা জানি, যে সরণী আমরা আজ তৈরী করব, আগামীকাল, সেই পথকেই রাজপথ বলে ঘোষণা করবে, সেই পথেই পা বাড়াবে নতুনদিন। আর তাই চাকচিক্য নয়, আন্তরিকতাই আমাদের পুঁজি। এই কারণে, আমরা প্রতি সংখ্যায়, একজন করে কবির পাঁচটি করে কবিতা ছাপব, যাতে তার লেখার ঘরাণাটা সকলের সামনে তুলে ধরতে পারি, তাকে সকলের সামনে প্রতিষ্ঠা করতে পারি, আজ যে লোকচক্ষুর আড়ালে, কাল সে বহু আলোচিত হয়ে দাঁড়াবে।

আসুন, আমরা একসঙ্গে পথ হাঁটি, দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে বন্ধু, হাতে দিন হাত, পায়ে পা মিলিয়ে রাস্তা ভাঙ্গি, সেই রাস্তা, যা আজ কষ্টকর ও এবড়োখেবড়ো, কিন্তু আমাদের পায়ের তলায় আমরা আগুন নিয়ে হাঁটা শুরু করলাম, এই শারদীয়ার পুন্যলগ্নে, এক মন্ত্রধ্বনিতে আকাশ ভরিয়ে দিয়ে “যা দেবী সর্বভুতেষু, বুদ্ধিরূপেন সংস্থিতা, নমস্তঃসৈ নমস্তঃসৈ নমস্তঃসৈ, নমহ নমহ, যা দেবী সর্বভুতেষু, বিদ্যারূপেন সংস্থিতা, নমস্তঃসৈ নমস্তঃসৈ নমস্তঃসৈ, নমহ নমহ , যা দেবী সর্বভুতেষু, শক্তিরূপেন সংস্থিতা, নমস্তঃসৈ নমস্তঃসৈ নমস্তঃসৈ, নমহ নমহ ...”


বৈজয়ন্ত রাহা
সম্পাদক, সৌকর্য